আপডেট: ২০২৪-০৪-২৪
বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি
ছয় মাস না যেতেই ঘরের মেঝে, দেয়াল ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। কাজের অনিয়মে বসবাসের অনুপযোগী ঘরগুলোতে সুবিধাভোগীরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে সংস্কার করেছেন।
উপজেলাকে প্রাথমিকভাবে ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করা হলেও বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। এই উপজেলায় প্রকৃত ভূমিহীনরা পাননি সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর।
কলসকাঠি ইউনিয়নের পুস্প রানী দাস বলেন, ‘ঘরে না উঠতেই দেয়াল ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও নির্মাণ কাজে অনিয়ম করার কারণেই এই অবস্থা। ৪ টি টিউবওয়েল ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় নিজের অর্থ দিয়ে নির্মাণ কাজ করিয়েছি।’
কলসকাঠি ইউনিয়নের বেবাজ গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২ নং ঘরের মালিক মোঃ এসাহাক, ২১ নং ঘরের জাহানারা বেগম, ৬ নং ঘরের মালিক ববি, ৯ নং ঘরের সন্ধ্যা রানী, ১৭ নং ঘরের মালিক পুস্প রানী দাস, ও ১০ নং ঘরের মালিক রুমা রানী দাস এর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর বুঝে পেয়েছেন । তারা অভিযোগ করে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু, কাঠ, টিন ও প্রয়োজনের তুলনায় সিমেন্ট কম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে দেয়াল থেকে আস্তর ধসে পড়ছে। ভেঙে পড়ছে দেয়াল ও পিলার। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ হওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়েও বিপদের আশঙ্কা রয়েছে অনেকের।
২০২২- ২৩ অর্থবছরে অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ ০৪এর আওতায় এ ইউনিয়নে ২৭টি ভূমিহীন পরিবারকে ২ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে একটি করে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুইলাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন কাজের দেখভাল করছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
এ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ বাস্তবায়নে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বাস্তবে তার মাঠ পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ কম থাকার কারণে কাজের তদারকি করতেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের অফিস সহকারী (নাজির) এনামুল। চতুর্থ ধাপের ঘর প্রতি বরাদ্দ ছিল দুই লক্ষ আশি হাজার টাকা। উপজেলায় ঘর বরাদ্দ ছিল ২৭৭টি চরাদি ইউনিয়নের ছাগলদি গ্রামে ৪৫টি, দাঁড়িয়াল উত্তমপুর ৫৯ টি, ফরিদপুর পশ্চিম রঘুনদ্দি ৪২ টি, কলসকাঠির বেবাজ গ্রামের ২৭ টি, রঙ্গশ্রির দাওকাঠি ও কাঠালিয়া গ্রামের ৫৮ টি, নিয়ামতির পশ্চিম কৃষ্ণনগর ৪৫টি। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়
৭৭৫৬০,০০০টাকা যার ক্রয় সংক্রান্ত দেখ ভালের পুরো দায়িত্বে ছিলেন নাজির এনামুল। অভিযোগ আছে এনামুল তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল কে কোনো হিসেব বুজিয়ে না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে তাকে জবাব দিহি করতে বাধ্য করতেন। নির্বাচনকালীন সময়ে বদলি হওয়ার আগের দিনও তিনি কলসকাঠির আশ্রয়ন প্রকল্প ঘুরে গেছেন এনামুল নাজির কে তার সাথে দেখা যায়নি, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্রশিলের বদলির আদেশের পর অফিসে দেখা যায়নি এনামুল কে বদলি হওয়ার পর তিনি নিয়মিত অফিস করেছেন। অভিযোগ আছে আশ্রয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির টাকায় তার সংগীতা সিনেমা হল সংলগ্ন বসতবাড়িতে অত্যাধুনিক কারু কাজ সজ্জিত বিভিন্ন কাজ চলছে। এনামুল চাকরি জীবনের বাকেরগঞ্জ ভূমি অফিসের নাজির অথবা নির্বাহী অফিসারের নাজির হিসেবেই চাকরি জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন মিডিয়াকর্মীরা এনামুলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক দুর্নীতির অনুসন্ধানী রিপোর্টে বরিশালের জেলা প্রশাসক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে এনামুলের বিরুদ্ধে তদন্ত করান তার দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ পেলে জেলা প্রশাসক তাকে ডিসি অফিসে সংযুক্ত করে , পড়ে তাকে পিরোজপুরে বদলি করেন। কিছুদিন সেখানে চাকরি করার পরে আবারো বাকেরগঞ্জের ফিরে এসে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন নাজির এনামুল। সচেতন মহল মনে করছেন একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্ত করে প্রমাণ মিলে তাকে এত বড় প্রকল্প দিয়ে দিলে সেই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে এটা নিশ্চিত।
ঘর নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ হওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়ে
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বেবাজের যে ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে তা পর্যবেক্ষন করা হয়েছে। টিউবওয়েল আমাদের জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্থাপন করেছে। আমরা তাদের সাথে কথা বলেছি। সংস্কারের কাজ তারা করবে, টিউবওয়েলের সমস্যা আরও অনেক যায়গায় আছে। এগুলো নিয়ে তারা কাজ করছে। যে সকল ঘড় তালা বদ্ধ অবস্থায় আছে সে সকল উপকার ভোগীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে, আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করছি, দেখি তাদের বক্তব্য কি। মুজিব বর্ষের ঘরগুলোর সংযোগ সড়কের জন্য এলজিইডি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে কলসকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না বলেন, আমার ইউনিয়নে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে কোনো রকম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। যদি কেউ নিম্নমানের দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার ঘর নির্মাণ করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে তা হলে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে।
© Copyright niropekkhasangbad.com
Developed By Muktodhara Technology Limited.