হাইকোর্টের রায়কে উপেক্ষা করে জোড় পুর্বক প্রাইম লাইফের জমি জনৈক মো. আনিসুল ইসলামের নামে দখলের অভিযোগ

 নিজস্ব প্রতিবেদক

আপডেট: ২০২৬-০৯-২৪



হাইকোর্টের রায়কে উপেক্ষা করে জোড় পুর্বক প্রাইম লাইফের জমি জনৈক মো. আনিসুল ইসলামের নামে  দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রভাব খাটিয়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর শাহ আলী থানা এলাকায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লি. ও প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লি. এর মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

আজ (২৪ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার সকালে জনৈক মো. আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। আনিসুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত কামরুল ইসলামের ছেলে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সম্পত্তিটির দখল নিয়ে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং মৃত মো. কামরুল ইসলামের স্ত্রী আক্তার জাহান (রাইসা সুলতানা) ও তাঁর সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বিষয়টি নিয়ে রুল জারি করেন।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ ও বিচারপতি মো. মঞ্জুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। আদালত একই সঙ্গে মামলার রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চলতি বছরের ৬ এপ্রিলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ, ১৫ জুলাইয়ের মহানগর দায়রা জজের আদেশ এবং ১৬ জুলাইয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পরবর্তী আদেশের কার্যকারিতাও স্থগিত করেন।

এর আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে বিরোধীয় সম্পত্তির দখল আক্তার জাহান ও তার সন্তানদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই আদেশের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনার আবেদন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ খারিজ করে দিলে প্রতিষ্ঠানটি হাইকোর্টে যায়।

হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আদেশগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে। ফলে আদালতের নথি অনুযায়ী, দখল হস্তান্তর সংক্রান্ত আগের আদেশ বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।

প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, “আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে জমিটির দখল নেওয়া হয়েছে। তারা জানান, প্রতিপক্ষরা এমন ঘটনা ঘটাবে বলে হুমকি দেওয়ায় কোম্পানির পক্ষ থেকে গত ২২ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। (ডায়েরি নাম্বার ১২৮০, তারিখ: ২২/০৯/২৬)। এর আগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষ থেকেও একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল (ডায়েরি নাম্বার ১২২৯, তারিখ: ২১/০৯/২৬)।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুল ইসলাম বলেন,”এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে হলে সময় লাগবে। অল্প সময়ে বলা যাবেনা। আদালতের স্টে অর্ডার আছে কিনা চাইলে তিনি উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

জবর দখল ও সাধারণ ডায়েরি বিষয়ে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন“ আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা।”

পরবর্তীতে আদালতের আদেশের কপি ও থানায় করা জিডির কপি উনার হোয়াটস অ্যাপ নাম্বারে পাঠিয়ে মন্তব্য করতে বলার পর তিনি এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি।