আপডেট: ২০২৬-০৭-৩০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সপ্তাহজুড়ে চলমান আন্দোলনে ভয়াবহ দমনপীড়ন চলিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এতে গত দুই দিনে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নাগরিক সংগঠন জেএএসি-এর বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণ করেছে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী। এতে গত সোমবার ২৫ জন ও মঙ্গলবার আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে কাশ্মীরে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে তেমন সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে না। গত জুন থেকে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরজুড়ে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট বন্ধসহ যোগাযোগ নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটি। এতে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পুরো অঞ্চলটি। পাশাপাশি সেখানে ব্যাপক গণগ্রেফতারও চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এদিকে, মঙ্গলবার পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সামরিকায়িত অঞ্চলটিতে নির্বাচনি সংস্কারের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ করছে জেএএসি ও তাদের সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানে থাকা ভারতীয় কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থার কারণে বহিরাগতরা এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। আর এ জটিলতার মাঝেই সোমবার সেখানে প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এছড়া মঙ্গলবার মিরপুরে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণে হতাহতের তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন জেএএসি-এর মুখপাত্র এস এ খান। তিনি বলেন, মরদেহগুলো সরিয়ে নিয়ে মিরপুরের হাসপাতালটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আমাদের কাছে রাস্তায় পড়ে থাকা মরদেহগুলোর ছবি ও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলতেই নিরাপত্তা বাহিনী লাশগুলো গুম করেছে। এদিকে, বেসামরিক নাগরিক নিহতের বিষয়টি অস্বীকার করে এর পেছনে ভারতের অর্থ ও উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।
© Copyright niropekkhasangbad.com
Developed By Muktodhara Technology Limited.