ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলার শুনানিতে বিব্রত হাইকোর্ট

 অনলাইন ডেস্ক

আপডেট: ২০২৬-০৭-৩০



ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলার শুনানিতে বিব্রত হাইকোর্ট

মামলায় অভিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি
স্টাফ রিপোর্টার : ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত মামলা শুনানিতে বিব্রতবোধ করেছেন হাইকোর্ট। মামলার নথি পাঠানো হয়েছে প্রধান বিচারপতির কাছে। গতকাল বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের একজন বিচারপতি বিব্রতবোধ করেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সাদ্দাম হোসেন ও জায়েদ বিন আমজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।
হাইকোর্টে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে জেএমসি বিল্ডার্সের মাধ্যমে ব্যাংকের শেয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষায় তার ভূমিকার অভিযোগ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যে বলা হয়, ২০১৭ সালে সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে এস আলম গ্রুপ ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক বিধান লঙ্ঘন করে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির বিষয়ে তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ)। এ বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিএফআইইউ।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের অপরাধে সাহাবুদ্দিনের বিচার সম্ভব : সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সংঘটিত অভিযোগের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের দায়মুক্তি প্রযোজ্য নয় বলে দাবি করেছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক। তার দাবি, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারিসহ রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব। গতকাল বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে আয়োজিত সাহাবুদ্দিনের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিলের আগে সমাবেশে তিনি একথা বলেন। অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি থাকাকালে কোনো ফৌজদারি মামলার আসামি বা গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু ২০১৭ সালে এস আলমের মালিকানাধীন কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের বড় দায়িত্ব পেয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন। আর এ সময়জুড়ে শেয়ার কেলেঙ্কারি করেছেন তিনি। এ ঘটনা রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের। সুতরাং সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে তিনি দায়মুক্তি পেতে পারেন না।